1. »
  2. জাতীয়

ভূমিকম্প মোকাবেলায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৯ পিএম | আপডেট: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৯ পিএম

ভূমিকম্প মোকাবেলায় সরকারের নতুন উদ্যোগ, দ্রুত কার্যকরের নির্দেশ

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ১০টি ভূমিকম্পের ঘটনায় উনাগরিকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।  আশঙ্কাজনক হারে ভূমিকম্প বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মহানগরীতে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)।

মন্ত্রী জানান, ভূমিকম্পের পরপরই নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে রাজধানীর খেলার মাঠ ও স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় করণীয় ও পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভূমিকম্প মোকাবেলায় একটি সমন্বিত প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ১১ মার্চ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিস্তারিত কর্মপন্থা চূড়ান্ত করা হবে।

ফেব্রুয়ারিতে ১০ দফা ভূকম্পন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মাসের প্রথম দিন (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহরের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।

৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিয়ানমারকেন্দ্রিক ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একইদিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাকেন্দ্রিক ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়।

৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকেন্দ্রিক ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ১ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি কম্পন হয়। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার একটি অগভীর ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্যমতে, এর কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল মাত্র ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার।

গত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।​