1. »
  2. সমগ্র দেশ

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থার আড়ালে ফিশিং ফাঁদ

সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ১০:০৮ এএম | আপডেট: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ১০:০৮ এএম

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থার আড়ালে ফিশিং ফাঁদ

রাজধানীতে সম্প্রতি চালু হওয়া এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। সেই মেসেজে থাকা লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারী চলে যাচ্ছেন বিআরটিএর আদলে তৈরি একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে, যেখানে আসলে চুরি করা হচ্ছে ব্যাংক কার্ডের তথ্য।

গতকাল রোববার ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতারণার শুরুটা হয় +৬৩ কোডযুক্ত একটি ফিলিপাইনের নম্বর থেকে পাঠানো এসএমএসের মাধ্যমে। চলতি বছরের ৭ মে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে ডিএমপি পরীক্ষামূলকভাবে এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করে। এই বাস্তব উদ্যোগের সুযোগ নিয়েই প্রতারক চক্র মানুষের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছে।

ভুয়া ওয়েবসাইটে যেকোনো গাড়ির নম্বর দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মামলা তৈরি হয়, প্রায় সব ক্ষেত্রে অভিযোগ থাকে 'গতিসীমা অতিক্রম' এবং জরিমানা নির্ধারণ হয় ৩ হাজার টাকা। এরপর তিন দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় মামলা নিষ্পত্তির প্রলোভন দেওয়া হয়।

মানসিক চাপ তৈরিতে দুটি কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে — ভয় ও লোভ। একদিকে সতর্ক করা হচ্ছে যে জরিমানা না দিলে জাতীয় চালক ডেটাবেজ ও ক্রেডিট রেকর্ডে প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে দ্রুত পেমেন্টে ছাড়ের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। পেমেন্টের ধাপে চাওয়া হচ্ছে কার্ডধারীর নাম, কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ ও সিভিভি নম্বর।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক জানান, এই তথ্যগুলো প্রতারকের হাতে গেলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অননুমোদিত লেনদেন করা সম্ভব। ডোমেইন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাইটটি মাত্র গত ২৩ মে নিবন্ধিত হয়েছে এবং ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রক্সি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্ভারের প্রকৃত অবস্থান আড়াল করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারি সংস্থা কখনোই বিদেশি নম্বর বা অচেনা ডোমেইন থেকে জরিমানার এসএমএস পাঠায় না। তাই অচেনা লিংকে প্রবেশ না করা, ডোমেইন নাম যাচাই করা এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যাংক কার্ডের তথ্য না দেওয়াই নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায়।