দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে রাতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০১ পিএম | আপডেট: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০১ পিএম
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর লড়াইয়ে আজ সোমবার রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে। আলজেরিয়া ও জর্ডান এখনও পয়েন্টহীন থাকায়, এই ম্যাচের বিজয়ী দল কার্যত ‘রাউন্ড অব ১৬’-এ জায়গা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে থাকবে তারা।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে। হ্যাটট্রিক করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ৩৯ বছর বয়সেও তিনিই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
তবে এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু মেসি নন; বরং দলটি আর আগের মতো কেবল ১০ নম্বর জার্সিধারীর ওপর নির্ভরশীল নয়। মেসির চারপাশে গড়ে উঠেছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিভাবান স্কোয়াড। গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রক্ষণে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জুটি, আর মাঝমাঠ ও আক্রমণে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ—সব মিলিয়ে দলটি বেশ সুষম। এই ভারসাম্য আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটির দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে। যদিও সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে কিছু প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল ছিল, তবুও আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তিনবারের বিশ্বকাপজয়ীরা ঠিক সময়েই নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
তবে আলজেরিয়ার তুলনায় অস্ট্রিয়া অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। ইউরোপের এই দলটি জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে। কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া এখন ইউরোপের অন্যতম আধুনিক ও গতিশীল দল।
অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের হাই-প্রেসিং কৌশল, দ্রুত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ, এবং দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতা। মার্সেল সাবিৎজার, কনরাড লাইমার ও ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনার এই কৌশলের মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে ডেভিড আলাবার উপস্থিতি রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতা যোগ করেছে, যা দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
জর্ডানকে হারিয়ে অস্ট্রিয়া টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে। তবে এটাও সত্য, জর্ডান খুব বড় পরীক্ষা ছিল না। বাছাইপর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অস্ট্রিয়া মাঝে মাঝে ধারাবাহিকতার অভাব দেখিয়েছে।
দুই দলের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি নেই। এর আগে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল, যেখানে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে তিন দশকেরও বেশি পুরোনো সেই ম্যাচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। বরং ২০২৬ বিশ্বকাপে এই লড়াইটি নতুন ও অনিশ্চিত এক উত্তেজনা তৈরি করছে।
কৌশলগতভাবে এটি দুই ভিন্ন ধারার ফুটবলের লড়াই। অস্ট্রিয়া প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ সৃষ্টি করে আর্জেন্টিনার বল নিয়ন্ত্রণে বাধা দিতে চাইবে। তবে বেশি ওপরে উঠে খেললে মেসি, আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্টিনেজের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আর আর্জেন্টিনার মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে এমন ভুল মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রিয়া তাদের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের অভিজ্ঞতা, মান এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। মেসি ও তাঁর সতীর্থরা যদি আগের ম্যাচের ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআট পর্বে এক পা রেখেই ফেলবে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন
- নতুন সাজে মেসি-ডি পল
- বিশ্বকাপে ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় পেল মিসর
- শেষ টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে তিন পরিবর্তন
- ডেভিডের হ্যাটট্রিক, কাতারের জোড়া লাল কার্ড, বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়
- বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেল মেক্সিকো
- বাংলাদেশের সামনে আজ বাঁচা-মরার লড়াই
- স্টেডিয়ামে বসে ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখবেন ভোজিনহার মা
- হ্যাটট্রিকের রাতে বাবার অসুস্থতায় কেঁদেছিলেন মেসি