1. »
  2. জাতীয়

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮ এএম | আপডেট: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮ এএম

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

প্রায় ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম অঞ্চলে রাউন্ড বা ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাসসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা—যাদের নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে—২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা—যাদের লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে—২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বাসসকে বলেন, ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেগুলো ইপিআইয়ের নিয়মিত কেন্দ্র। এ ছাড়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন প্রভৃতি স্থানে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে হাতে এসে পৌঁছেছে এবং ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রে গিয়ে সন্তানদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগস্থ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেবেন, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই ক্যাম্পেইন আবার হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়, যা তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, এবং ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সূত্র: বাসস