1. »
  2. আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৫ এএম | আপডেট: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৫ এএম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

চার মাসব্যাপী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে ইরানের অনীহার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবার ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোরের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা ০.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭৩.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০.১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। তবে ইরান এবং আয়োজক দেশ কাতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তেহরান কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নেবে না। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখবে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ফলে চলতি বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৫ ডলার কমে যায়, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৩১ ডলার কমে, যা ২০২০ সালের করোনাভাইরাস মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে এসেছে। ফলে বিশ্লেষকরা চার মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের তেলের মূল্য পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেলের ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং সরবরাহ ধীরে ধীরে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরছে।

অন্যদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

সূত্র: রয়টার্স