1. »
  2. খেলার মাঠ

রোনালদোর গোলে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:১১ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:১১ এএম

রোনালদোর গোলে নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

প্রথমার্ধের খেলায় এতটুকুও আভাস ছিল না যে দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষা করছে এমন এক রুদ্ধশ্বাস নাটক। টরন্টোর মাঠে বিরতিতে দুই দল গোলশূন্য থাকলেও আক্রমণ ও সুযোগের দিক থেকে কোনো কমতি ছিল না। তবে গোলের দেখা পায়নি কেউই।

কিন্তু বিরতির পর যেন পাল্টে যায় পুরো দৃশ্যপট। গোল, অফসাইডে বাতিল হওয়া সিদ্ধান্ত, একের পর এক ভিএআর হস্তক্ষেপ আর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক সিনেমার গল্পে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যোগ করা সময়ের দীর্ঘ লড়াই শেষে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় পর্তুগাল। এই জয়ে তারা নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। অন্যদিকে, এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ধাক্কায় বিদায় নিতে হয় ক্রোয়েশিয়াকে। 

একইসঙ্গে শেষ হয়ে গেল লুকা মদরিচের আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়। ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন।

প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রাফায়েল লিয়াও, জোয়াও কানসেলো ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হন। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ ছিলেন দুর্দান্ত দৃঢ়তায় ভরপুর।

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে তেমন উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায়ই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রস থেকে ইভান পেরিসিচের নিচু শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তিন মিনিট পর আবার গোল পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

এরপরই শুরু হয় ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ৬১ মিনিটে কানসেলোর পাস থেকে রোনালদো গোল করলেও ভিএআর সেটি বাতিল করে দেয়। তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৮ মিনিটে ভিএআর রিভিউয়ের পর পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান পর্তুগাল অধিনায়ক। এই গোলটি ছিল তার বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে প্রথম গোল।

সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৫ মিনিটে কোভাচিচের শক্তিশালী শট ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ৮০ মিনিটে আবারও ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, যা নিয়ে তার অসন্তোষ স্পষ্ট ছিল।

শেষ দিকে এসে নাটক আরও ঘনীভূত হয়। যোগ করা সময়ের ৯৪ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন গনসালো রামোস, পর্তুগাল এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।

তবে ম্যাচের উত্তেজনা তখনও শেষ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৩ মিনিটে ইয়োস্কা গাভার্দিওল গোল করে সমতা ফেরান বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ে আক্রমণের শুরুতে অফসাইড ধরা পড়লে গোল বাতিল হয়। এতে ভেঙে যায় ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে দর্শকরা মাঠে বোতল নিক্ষেপ করেন, কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে পর্তুগাল। আর অন্যদিকে হতাশায় ভেঙে পড়েন মদরিচ ও তার সতীর্থরা।

আগামী সোমবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।