1. »
  2. জাতীয়

বৃক্ষরোপণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ০২:৪২ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ০২:৪২ পিএম

বৃক্ষরোপণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। সরকারের নেওয়া গাছ লাগানো, খাল খননসহ সামাজিক উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ বা সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, কারণ এর গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবগত। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচক্ষণ শিক্ষার্থী ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণেরাই একটি "সবুজ বসতি" গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ বা বনায়নই যথেষ্ট নয়—এই বনায়ন পশু-পাখি ও বিভিন্ন প্রাণী-কীটপতঙ্গের জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দিতে পারছে কিনা, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তায় পরিবেশবিদ ও বনবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাই নদী-নালা, গাছপালা, কীটপতঙ্গ, বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীসহ চারপাশের পরিবেশ-প্রতিবেশ মানুষের জন্য উপকারী হলেও, এসব থেকে উপকার পেতে হলে মানুষকেও কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জীব ও জড় পরিবেশের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে একটি টেকসই বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি। আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন যেন কেবল বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ যেন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করলে একটি করে গাছ লাগিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে স্মরণীয় করে রাখুন যাতে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে ওঠে এবং এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন এগিয়ে যায়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই চলবে না—কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কোন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ প্রয়োজন তা যাচাই করা জরুরি। দেশীয় প্রজাতির ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

সবুজায়নের পাশাপাশি সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

গাছ কেটে না ফেলে জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন গাছ লাগানোর চেয়ে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারছে কিনা তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা বা পানির নিরাপত্তা—কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়ন ও পরিবেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএসভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদীতীর ও খালের দুই পাশে সবুজায়ন এবং ইকো-ট্যুরিজমকে সরকার অর্থনীতির নতুন খাত হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি জানান, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা কৃষি সেচ সুবিধার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপর নির্ভর করে না—দেশের সব নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং 3Rs (রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল) নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে প্রতিটি নাগরিককে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সতর্কবার্তা

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নদী-জলাভূমি ভরাট ও বন উজাড়ের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, যার ফলে বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাস্তুতন্ত্র ও প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে মানব সমাজের নিরাপত্তাও সম্ভব নয় মন্তব্য করে বন্যপ্রাণী ও কুকুর-বিড়ালের প্রতি অমানবিক আচরণ না করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন