1. »
  2. জাতীয়

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:২১ এএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:২১ এএম

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আজ মঙ্গলবার পালিত হতে যাওয়া ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য কর্মসূচি ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’—যার মাধ্যমে হেপাটাইটিস নিয়ে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রোগটি নিয়ে ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যদিও সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধযোগ্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম যুক্ত করে দেশেই উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে আসে। লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে।

রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। 

এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ হবে। এতে হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে সুস্থ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

সূত্র : বাসস

আরও পড়ুন