এসডিজি বাস্তবায়নে এমডিজির ধারাবাহিকতায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:৫৭ পিএম | আপডেট: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ যেভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় সম্মেলনে ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লেফট বিহাইন্ড’ বা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’—এই মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মিল রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমান রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গেও এমডিজি বা এসডিজির লক্ষ্যের বড় ধরনের অমিল নেই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির সঙ্গে সমন্বিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো (Five-Year Strategic Framework) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’—দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা ও সুশাসন—এসডিজির মূল অগ্রাধিকারগুলোকেই প্রতিফলিত করছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সুসংহত করতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ বা থ্রি-আর (3R) কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থে কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।
এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড এবং সারাদেশে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর—এই তিন গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু এমপ্লয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিন দিনের এ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
আরও পড়ুন
- পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান
- কক্সবাজারের মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী
- ‘গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই শক্তিশালী হবে গণতন্ত্র’ : মির্জা ফখরুল
- রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠাল সংসদ সচিবালয়
- আজ থেকে উন্মুক্ত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
- রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ
- পথ হারালে জুলাই জাদুঘরই দেখাবে নতুন পথ : ড. ইউনূস