1. »
  2. আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে নিষেধাজ্ঞামুক্তির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, অনড় তেহরান

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৩৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৩৪ এএম

হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে নিষেধাজ্ঞামুক্তির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, অনড় তেহরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। 

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুনিরের এই সফরে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে গত জুনে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের উপাদানগুলো পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি সামনে আসে। 

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে ইরানকে, পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ। 

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল করবে, ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ-অবরোধও প্রত্যাহার করবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রস্তাবেও নিজেদের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান থেকে সরে আসেনি তেহরান। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে, পাশাপাশি চাইছে সব নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন-গাজাসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। রেজাই মুনিরকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তেহরান তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত ২৪ আগস্ট, যেদিন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উন্মোচন করেন, যার লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ভিত্তি স্তব্ধ করে দেওয়া। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসবে না। 

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য স্পর্শকাতর এই জলপথ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রস্তাব ও শর্তের মধ্যে যে ব্যবধান রয়ে গেছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল এরাবিয়া

দিডি/মোজাহিদ