ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনে প্রশাসনের আপত্তি, তদন্ত কমিটি গঠন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৬ পিএম | আপডেট: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৬ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই সংগ্রহশালাতেই জিন্নাহর তিনটি ছবি ভেঙে ও ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। এর কিছু সময় পরই প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর কয়েকটি কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের আপত্তি জানায় এবং তদন্তের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
প্রশাসনের ভাষ্যমতে, আরও দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত হবে ডাকসুর বিরুদ্ধে — বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু, এবং অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু-সংক্রান্ত এসব সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে গত ৫ আগস্ট উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য ও শহীদ পরিবারের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এর বাইরে ডাকসু কলাভবনসংলগ্ন ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে আরও দুটি স্মৃতিস্তম্ভ বসিয়েছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকির দায়িত্ব সিন্ডিকেটের, আর অধ্যাদেশ ও বিধিমালার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনা মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, যা ডাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক, এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালার তিনটি জিন্নাহর ছবি ভেঙে-ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার, আর একই দিন বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ।
প্রশাসন জানায়, শিক্ষক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুমোদিত ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা রয়েছে, যার বাইরে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। ডাকসুর চালু করা ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্নকারী উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই চালাতে হবে। প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল কাঠামো গড়ার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
- গবেষণা-উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় জোর সরকারের: ড. মামুন
- ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর সাবেক শিক্ষার্থীর
- এসএসসিতে পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস সাড়ে চার হাজার
- ঢাবি নৃত্য সংসদের আংশিক কমিটি ঘোষণা
- এক কোটি কর্মসংস্থান বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: ড. মামুন
- শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- এবার ৫৭ বিদ্যালয়য়ে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি
- দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১৭৬ জন