1. »
  2. আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালির ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫২ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫২ এএম

হরমুজ প্রণালির ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক তিন দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ 

তিনি আরও দাবি করেন, গত তিন দিনে এই জলপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিজয়ী হবে।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হরমুজ প্রণালিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, পারস্য উপসাগর ও এর জলপথে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের কাছে সমুদ্র শুধু বিশাল জলরাশি নয়; এটি দেশটির ইতিহাস, পরিচয় ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও সমুদ্র ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহনপথ বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি দেশের জাতীয় সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

আঞ্চলিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ইরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানান পেজেশকিয়ান। এ ক্ষেত্রে দেশটির নৌবাহিনী এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করছে তেহরান।

এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল তালাই-নিক বলেছেন, নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ইরান শান্তি চায়। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা হলে চলমান সংঘাত অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।