1. »
  2. জাতীয়

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩৩ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৩৩ এএম

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় কাটানো বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দীপ। তাঁর মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে দীপকে নিয়ে যায় পিবিআই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর সঙ্গে এক ব্যক্তির দেখা হওয়ার দৃশ্য পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দেখা করেন দীপ। সেখানে দুজনকে হাত মেলাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁরা পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তবে দীপের ভাষ্য ছিল, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁরা দুজন একটি ওয়ার্কশপে যান। মেরামত শেষে বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান। পরে দীপ নিজের গন্তব্যে চলে যান। এরপর তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের ভূমিকা নিয়ে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

মরদেহের হাতে থাকা বিশেষ ঘড়ি এবং প্যান্টের পকেটে পাওয়া আইফোন দেখে স্বজনেরা নিশ্চিত হন, এটি নিখোঁজ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিল বলে জানা গেছে। তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই। তদন্তের মাধ্যমে সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।