1. »
  2. সমগ্র দেশ

ঢাকার ৬ রুটে আজ থেকে চলবে কোম্পানিভিত্তিক বাস

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫ এএম | আপডেট: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫ এএম

ঢাকার ৬ রুটে আজ থেকে চলবে কোম্পানিভিত্তিক বাস

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ছয়টি রুটে চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল। ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রায় ১১ বছর পর বড় পরিসরে এ পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে একই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা কমানো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত সময়ের মধ্যে রাজধানীর ৩২টি রুটেই এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবিত ছয়টি রুট হলো—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর। রুটভেদে ২০ থেকে ২৫৩টি বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে শিববাড়ী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। বর্তমানে এ রুটে ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের বাস চলাচল করছে।

গত ৮ অক্টোবর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ পরিকল্পনায় রাজধানীর বিদ্যমান ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টিতে নামিয়ে আনার কথা রয়েছে। প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। বর্তমানে ওই রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি কোম্পানি।

রাজধানীতে যানজটের অন্যতম কারণ একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা। যাত্রী পেতে বাসগুলো পথে পথে দাঁড়ায়। একে অপরকে ওভারটেক করতে গিয়ে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। অনেক সময় একাধিক লেন আটকে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

এ সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০০৪ সালে প্রণীত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব ছিল। তবে উদ্যোগ নেওয়ার পরও দীর্ঘ ১১ বছরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্স সিলভা ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি যৌথভাবে এ সেবা চালু করে। এতে কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ছিল। যাত্রীদের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্টপেজে ওঠানামা করতে হতো।

তবে ওই রুটে চলাচলকারী অন্য কোম্পানির বাসগুলোকে একীভূত করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলোও বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কয়েকটি ছাউনি থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস মালিকদের সাড়া না পাওয়ায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার নতুন করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুট রয়েছে ৪১৮টি। বাস কোম্পানি ১২০টি এবং চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। তবে বর্তমানে সচল রুট ৯৮টি এবং বাস কোম্পানি ৬৬টি। একই রুটে আট থেকে দশটি কোম্পানির বাস চলাচলের নজির রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় বিভিন্ন কোম্পানির বাস একীভূত করে একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে বাসমালিকেরা মুনাফা পাবেন। চালক ও শ্রমিকেরা চুক্তিভিত্তিক নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে, নির্দিষ্ট স্থানে থামবে এবং সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা করবে। এ ছাড়া এক বাস অন্য বাসকে ওভারটেক করতে পারবে না।