আজ আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:৩১ এএম | আপডেট: শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:৩১ এএম
আজ ২৪ জানুয়ারি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। শোকাবহ এই দিনটি উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আরেকটি দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। নয়াপল্টনের কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ন্যাশনাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর।
২৭ জানুয়ারি তাঁর মরদেহ দেশে আনা হলে বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তা নেওয়া হয় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গুলশান কার্যালয়ে। সে সময় স্বৈরাচারী সরকারের দ্বারা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা খালেদা জিয়া সন্তানের মরদেহ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে ঢাকায় হাজার হাজার শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ঘটে এমন এক সময়ে, যখন তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনের কারণে ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। ছেলের মৃত্যুসংবাদে তিনি একাধিকবার অচেতন হয়ে পড়েন। তবুও সন্তানের মৃত্যুর শোক বুকে চেপে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৬৯ সালে ঢাকায়। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে অধ্যয়ন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পরিবারের সঙ্গে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব কেটেছে। ১৯৭১ সালের ২ জুলাই পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে, তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া ও বড় ভাই তারেক রহমানকে আটক করে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁরা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৬ ডিসেম্বর তাঁরা মুক্তি পান।
পর্দার আড়ালের জীবন
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র ও খালেদা জিয়ার সন্তান হলেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন রাজনীতির বাইরে থাকা একজন মানুষ। খেলাধুলা, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তিনি।
পারিবারিক জীবন
আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান—জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান।
ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা
২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
গ্রেপ্তার, মামলা ও প্রবাসজীবন
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরাফাত রহমান কোকো। পরে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক হয়ে মালয়েশিয়ায় বসবাস শুরু করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ছিল চাঁদাবাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, আয়কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ। বেশ কয়েকটি মামলায় তাঁকে দণ্ডিত ও জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
- সময় এসেছে পরিবর্তনের, ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশ বদলানো সম্ভব: তারেক রহমান
- চট্টগ্রাম হবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক হাব: আমির খশরু
- দেশের নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে যুবসমাজ পুরোপুরি প্রস্তুত : তারেক রহমান
- তারেক রহমানের অপেক্ষায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ, নেতাকর্মীদের ঢল
- জামায়াত-আমেরিকার আঁতাত দেশের জন্য ক্ষতিকর : মির্জা ফখরুল
- ভারতের সাথে বিএনপির চুক্তি একটি অপপ্রচার : মাহদী আমিন
- আজ চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান, কাল পলোগ্রাউন্ডে মহাসমাবেশ
- তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এনসিপি অভিযোগ মিথ্যা : রিজভী