1. »
  2. আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ : সুপ্রিম কোর্ট

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪৯ এএম | আপডেট: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪৯ এএম

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ : সুপ্রিম কোর্ট

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

নয় বিচারপতির বেঞ্চে ছয়জন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দেন, আর তিনজন বিচারপতি তাঁর পদক্ষেপ সমর্থন করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল করা হয়।

রায়ের পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি রায়কে ‘জাতির জন্য অসম্মানের’ বলে মন্তব্য করেন এবং কয়েকজন বিচারপতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, অন্য আইনের আওতায় সব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ককে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারের নজির বাড়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথমে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী আলোচনা শেষে তা জুলাইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং আগস্টে ২০ শতাংশে নামানো হয়। সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তির ফলে শুল্ক আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে আসে। তবে এর বাইরে আগের ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল ছিল। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে। আদালতের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল এবং নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর চূড়ান্ত হার কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প জানান, তাঁর শুল্ক হুমকির মুখে যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, সেগুলোর অনেকই বহাল থাকবে। তিনি বিশেষভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ও ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের মতো বিকল্প আইনি পথ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন।

এদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই হ্রাস সাময়িকও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।