1. »
  2. আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয় শর্ত

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৭ এএম | আপডেট: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৭ এএম

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয় শর্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে ছয় দফা শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্ভব নয়।

রোববার (২২ মার্চ) মেহের নিউজ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান আগেই পরিকল্পিত বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যা কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। বর্তমানে ‘কৌশলগত ধৈর্য’ বজায় রেখে সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।

লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের পর ইরান এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়া সম্ভব হয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির জবাব দেওয়া যায়। তেহরান জানিয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলেও তারা নিজেদের শর্ত থেকে সরে আসবে না।

ইরানের দেওয়া ছয়টি প্রধান শর্ত হলো—
প্রথমত, ভবিষ্যতে আর কোনো যুদ্ধ না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
তৃতীয়ত, যুদ্ধের ফলে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
চতুর্থত, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
পঞ্চমত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গঠন করতে হবে।
ষষ্ঠত, ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করে ইরানের কাছে প্রত্যর্পণ করতে হবে।

ইরান সরকারের মতে, এই শর্তগুলো দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন কৌশলগত কাঠামোর অংশ। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

ফলে তেহরানের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।