1. »
  2. সমগ্র দেশ

জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় বাড়ছে ঝুঁকি : এফএফডব্লিউসি

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩০ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩০ এএম

জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় বাড়ছে ঝুঁকি : এফএফডব্লিউসি

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন এই কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই দেশে বন্যার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

তিনি বলেন, এ বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

ইতিহাস বলছে, বর্ষার মাঝামাঝি সময়েই দেশে বড় বড় বন্যা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। আবার ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল, যাতে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির প্রবাহ একসঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়াই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৪ সালে এই দুই নদীর পানির উচ্চপ্রবাহ একত্রিত হওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়, যেখানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়েও বন্যার প্রভাব বেড়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেই সামনে আনে।

সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এই সময়সীমা তিন দিনের মতো।

বর্তমানে দেশের কিছু নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। মেঘনা অববাহিকায় আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টিপাত না থাকায় সেখানকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর সাময়িকভাবে কমলেও আগামী কয়েক দিনে তা আবার বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

বর্তমানে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে সতর্কসীমা স্পর্শ করেছে, যা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সূত্র : বাসস