ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪০ পিএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪০ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিশ্চিত করেন সিন্ডিকেট সদস্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ গ্রহণ, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে যাদের, তারা হলেন— ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী ও অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
সভা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটির করা অধ্যাপক সাদেকা হালিমের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নেবে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাদেকা হালিম, এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাদেকা হালিম বলেন, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি মন্তব্য করবেন না। অব্যাহতি পাওয়া ছয় অধ্যাপকও কথা বলতে রাজি হননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পৃথক একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, প্রমাণসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ায় তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান।
আরও পড়ুন
- এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- বুয়েটের নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম
- চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
- চবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
- প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী
- জলাবদ্ধতা-পরিবহন সংকটে বন্ধ চবির ক্লাস-পরীক্ষা
- ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
- বুড়িগঙ্গা থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার