1. »
  2. আন্তর্জাতিক

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শর্ত ইরানের

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪২ এএম | আপডেট: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪২ এএম

হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। একই দিন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

গতকাল শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। 

পরিষদের সচিব ও আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বিবৃতিতে শর্তগুলো তুলে ধরেন—ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি না দেওয়া, ইরান ও মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ নিঃশর্ত মুক্তি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; হরমুজ খুলতে সম্মত হওয়ার আগে গ্রহণযোগ্য চুক্তি চায় ওয়াশিংটন।

এর মধ্যেই শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে দেশটি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘শত্রুভাবাপন্ন ইরানি হামলা’ আখ্যা দিয়েছে। 

অ্যাডনক জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়; জাহাজ ও ক্রু নিরাপদ আছেন। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অ্যাডনকের এক ডজনের বেশি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যাতে একজন ক্রু নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।

তবে একই সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, নৌ চলাচল নিয়ে সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছেন তারা, বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের ট্রানজিট রুট নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে প্রণালি পুরোপুরি খোলা অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল বলে জানান তিনি, এবং এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনকে দায়ী করেন। 

মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে চলছে; পাশাপাশি জাহাজে হামলারও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, চুক্তির জন্য এখনই সবচেয়ে ভালো সময়।

জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হওয়ার কথা। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হতে বাকি আছে সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময়, যদিও প্রয়োজনে তা বাড়ানো হতে পারে। এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে পৃথক একটি চুক্তির কাছাকাছিও পৌঁছেছে ইরান বলে জানা গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান