‘আমি কাতারে বোমা মেরেছি’ : নেতানিয়াহু
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০১ পিএম | আপডেট: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০১ পিএম
গাজা যুদ্ধ চলাকালে কাতারে হামলা চালানোর কথা এতদিন যতটা কূটনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, এবার তার চেয়ে অনেকটাই সরাসরি এবং দম্ভভরে স্বীকার করলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমা হামলাও চালিয়েছি। যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। আর তারাও আমার ওপর হামলা করেছে।’
গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে কাতারকে সরাসরি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র বলেও আখ্যা দেন।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য, গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের সময় কাতার তাদের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং গাজা যুদ্ধ থামাতেও সক্রিয় ছিল। ২০১২ সাল থেকে দেশটি হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছিল, যদিও কাতার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য— এই অনুমতি তারা দিয়েছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই।
নেতানিয়াহুর এই স্বীকারোক্তির নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। সেদিন কাতারের রাজধানী দোহায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকরত হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় হামাসের কয়েকজন নেতার পাশাপাশি প্রাণ হারান কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মীও।
বৈঠক চলাকালীন আকস্মিক এই হামলা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়— কাতার একে ‘কাপুরুষোচিত’ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে, যার প্রতিক্রিয়া জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারিও।
নিন্দার স্রোতে যোগ দেয় ইরান ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ, আর সংহতি জানাতে দোহায় ছুটে যান জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা। এমনকি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও একে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই হামলার পরপরই নেতানিয়াহু কাতারের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে হোয়াইট হাউস ও দোহার পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল। তবে সেই ক্ষমাপ্রার্থনার এক বছর পূর্তির ঠিক আগমুহূর্তে এসে একই ঘটনা নিয়ে তার এই খোলামেলা, দম্ভভরা স্বীকারোক্তি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— কূটনৈতিক ক্ষমা প্রকাশ্যে করলেও প্রকৃত অবস্থান আসলে কতটা বদলেছে ইসরায়েলের।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন
- মৃত ভেবে শোক, ১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপে জীবিত মিলল বৃদ্ধা
- হরমুজে জলযান প্রবেশে ইরানের নিষেধাজ্ঞা, দ্বিগুণ হচ্ছে পেট্রোলের দাম
- কেপ ভার্দে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫
- মিয়ামি বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৫
- হোটেল বন্ধ, কলকাতায় ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা
- নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর জীবিত দুই কর্মী উদ্ধার
- ইরানবিরোধী ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল ইইউ
- 'শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে' : ইরান