কঙ্গোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৯, বেশিরভাগই শিক্ষার্থী
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ এএম
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আগের দিন সকাল ৮টার দিকে বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা পরে দুটি স্থানীয় স্কুল ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০০টি বাড়িও পুড়ে গেছে, তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাতিসংঘ পরিচালিত রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি কাছের একটি বসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে; বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জানা গেছে, ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে এএফপিকে জানান, এ সময় পদদলনের ঘটনাও ঘটে, যাতে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপগভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে রয়টার্সকে জানান, দুটি স্কুলের পাশাপাশি প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘরও আগুনে পুড়ে গেছে।
এদিকে মুখপাত্র কানিউকা জানান, আহত ২৯ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ২১ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন। গুরুতর আহত ১৭ জনকে কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজনকে বুকাভু প্রভিন্সিয়াল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানী কিনশাসাভিত্তিক সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে, যদিও এতে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
জাতীয় শিক্ষা ও নতুন নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয় জানায়, হতাহতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা মূল্যায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহান্তে রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পদদলনে কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন। পরপর দুটি দুর্ঘটনার পর সরকার জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদার এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়নে দেশজুড়ে বিশেষ দল মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন
- হরমুজে মার্কিন জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা
- মৃত ভেবে শোক, ১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপে জীবিত মিলল বৃদ্ধা
- হরমুজে জলযান প্রবেশে ইরানের নিষেধাজ্ঞা, দ্বিগুণ হচ্ছে পেট্রোলের দাম
- কেপ ভার্দে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫
- মিয়ামি বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনা, নিহত ৫
- ‘আমি কাতারে বোমা মেরেছি’ : নেতানিয়াহু
- হোটেল বন্ধ, কলকাতায় ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা
- নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর জীবিত দুই কর্মী উদ্ধার