1. »
  2. আইন আদালত

প্রতারণা রোধে আগের বিয়ের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রুল

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৭ পিএম | আপডেট: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৩৭ পিএম

প্রতারণা রোধে আগের বিয়ের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রুল

বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা বন্ধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বর্তমান বিয়ে, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর ও তানজিলা রহমান।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’ কাবিননামায় বর ও কনের পূর্ববর্তী ও বর্তমান বৈবাহিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে আগের বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং পূর্ববর্তী সম্পর্ক থেকে তৈরি ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্বের বিষয়গুলো সমানভাবে উল্লেখের সুযোগ নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান কাবিননামায় বরের বর্তমান স্ত্রীর তথ্য ও সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও আগের বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা নেই।

রিটকারীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য গোপন রাখার সুযোগ থাকায় পরবর্তী বিয়েতে প্রতারণার ঘটনা এবং পারিবারিক বিরোধ তৈরি হতে পারে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তি প্রয়োজনীয় ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আগের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনের আগের ও বর্তমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বর্তমান বিয়ের সন্তানদের বিবরণ, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

শুনানি শেষে আদালত জানতে চান, এসব তথ্য কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।