ফ্রান্সে বিক্ষোভে সহিংসতা-লুটপাট, সেনা মোতায়েন
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫০ এএম | আপডেট: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫০ এএম
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পর নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করছে সরকার। আগামী শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মাঠে নামানো হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ‘সেন্তিনেল’ মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ।
মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা সদস্যরা মোতায়েন থাকলে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী জেন্ডার্মস সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক পুলিশি প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। তাঁর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো সহিংসতা উসকে দিয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
মার্সেইয়ে কারফিউ, গ্রেপ্তার ১০১
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার মধ্য প্যারিস, মার্সেইয়ের কয়েকটি এলাকা এবং আরও কিছু শহরে কারফিউ জারি ও বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মার্সেইয়ের কিছু এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শহরটিতে এ পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গত শনিবারের সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্সেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
পুলিশ ইউনিয়নের কর্মকর্তা আর্নড ব্লেস পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে একে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতার মাত্রা ছিল নজিরবিহীন। কট্টর বামপন্থি ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে প্রায় চার হাজার টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছিল। একপর্যায়ে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশকে পিছু হটতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার মার্সেই সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ শহরের মেয়র বেনোয়া পায়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। মেয়র অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে লুটপাট ঠেকাতে শুধু শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান না চালিয়ে পুলিশের সদস্যসংখ্যা ও মোতায়েনের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
প্যারিসকে ‘মুসলিম শহর’ হওয়ার আশঙ্কা ট্রাম্পের
ফ্রান্সের সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি দাবি করেন, প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনার ধারাবাহিকতা।
আরও পড়ুন
- মোদির বাসভবনের কাছে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ
- ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫০, আহত দুই শতাধিক
- সৌদি আরবে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২
- মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল ১২ জনের
- রমুজে মাইনের আঘাতে তেলবাহী জাহাজে আগুন
- ভারতে ‘বাংলাদেশের আদলে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র’ চলছে: রাজনাথ সিং
- ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত, গ্রেপ্তার ১,২৬০
- ইয়েমেনে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২