1. »
  2. সমগ্র দেশ

পাটুরিয়ায় উদ্ধার শর্টগানটি হারিয়ে যাওয়া আনসার সদস্যের অস্ত্র

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩৭ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩৭ পিএম

পাটুরিয়ায় উদ্ধার শর্টগানটি হারিয়ে যাওয়া আনসার সদস্যের অস্ত্র

পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ট্রাক টার্মিনালের পাশের ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া শর্টগানটি আনসার বাহিনীর হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে  পুলিশ। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার এর শোচনীয় পতনের সময় পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে আনসার সদস্যদের ব্যবহৃত দুটি শর্টগান হারিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে নিখোঁজ একটি শর্টগানের নম্বরের মিল পাওয়ায় এই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
 এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের ধুতরাবাড়ী এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ'র পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের পূর্ব পাশের সীমানাপ্রাচীরের বাইরে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মুখ থেকে শর্টগানটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শর্টগানটি উদ্ধার করে। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রাত ৭টা ৫ মিনিটে সেটি জব্দ তালিকায় রেকর্ড করা হয়।  অস্ত্রটির ব্যারেল ও ট্রিগারের অংশে মরিচা পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ও রয়েছে। এতে কোনো সেফটি কেস ছিল না। অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘K G4394094, BAV 2019 MTC, MADE IN BRAZIL’ লেখা রয়েছে। তবে ‘K’ ও ‘G’ অক্ষরের মাঝখানের একটি সংখ্যা অস্পষ্ট হওয়ায় সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ প্রতিবেদন সূত্রে জানাযায় , ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাটুরিয়া ফেরিঘাটসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর বুকিং কাউন্টারে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় আনসার সদস্য লুৎফর রহমান ও জুয়েল শেখের নামে ইস্যু করা দুটি শর্টগান হারিয়ে যায়। পরে লুৎফর রহমানের নামে ইস্যু করা শর্টগানটি শিবালয় থানা-পুলিশ উদ্ধার করলেও জুয়েল শেখের নামে ইস্যু করা অস্ত্রটি নিখোঁজ ছিল।

এ ঘটনায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের শিবালয় উপজেলা প্রশিক্ষক সোহেল রানা শিবালয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে নিখোঁজ শর্টগানটির নম্বর উল্লেখ করা হয় KTG4394094। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে একটি সংখ্যা ছাড়া বাকি অংশের মিল পাওয়া গেছে। অস্পষ্ট সংখ্যাটির কারণে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও অস্ত্রটি আনসার সদস্য জুয়েল শেখের নামে ইস্যু করা শর্টগান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবালয় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া শর্টগানটি আনসার বাহিনীর। কারণ, অস্ত্রটির নম্বরের সঙ্গে আনসার বাহিনীর হারিয়ে যাওয়া শর্টগানের নম্বরের মিল রয়েছে। বিষয়টি শিবালয় থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের হারিয়ে যাওয়া শর্টগানের নম্বরের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির নম্বরের মিল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।