1. »
  2. আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনা নিহতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মুহুর্মুহু হামলা

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৭ এএম | আপডেট: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৭ এএম

মার্কিন সেনা নিহতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মুহুর্মুহু হামলা

জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই হামলা ছিল ইরানে টানা অষ্টম রাতের মতো মার্কিন সামরিক অভিযান, যা মূলত গত ৮ জুলাই দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভেঙে পড়ার পর থেকে চলছে। 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলার দুটি লক্ষ্য— হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া, এবং জর্ডানে শনিবার রাতে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলাকারী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোকে দ্রুত জবাব দেওয়া। 

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রোববার ভোরে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

অন্যদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কেশম দ্বীপে একাধিকবার মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে দ্বীপটির বিভিন্ন অংশ ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পারস্পরিক হামলার ধারাবাহিকতাতেই গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সেন্টকম ও মিত্র বাহিনীর অভিযানের সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।

সেন্টকমের তথ্যমতে, জর্ডানের হামলায় নিহত দুই সেনার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একজন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চার মার্কিন সেনাকে ইতোমধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, আর সামান্য আহত অন্যরা চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। নিহত সেনাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগ পর্যন্ত তাদের পরিচয়সহ কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।