কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৪ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৪ পিএম
কানাডার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের জেরে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে— এমন অভিযোগ তুলে সোমবার (২০ জুলাই) এই সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। নতুন শুল্কের তালিকায় রয়েছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য, সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্যসহ আরও বিভিন্ন খাত। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও মাছের মতো কানাডার প্রধান কয়েকটি রপ্তানিপণ্যকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই পদক্ষেপকে ইউএসএমসিএ চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন এবং একে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আচরণের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির প্রসঙ্গও তোলেন— বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এসেছে কার্নির এই মন্তব্য। তবে কার্নি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত কানাডা।
সোমবারের ঘোষণার আগে থেকেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ রেখেছে, সফটউডের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপরও রয়েছে ২৫ শতাংশ শুল্ক। এর জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে।
উল্লেখ্য, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আগে শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সোমবারের নির্বাহী আদেশে দাবানল প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই। বরং গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে পুরোনো বিরোধকেই সামনে আনা হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরের আমেরিকান গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা অতিরিক্ত কর বসায়, যা বৈষম্যমূলক। দুগ্ধপণ্য নিয়েও পুরোনো অচলাবস্থা রয়েছে— কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানিতে কড়া সীমা ও উচ্চ শুল্ক কার্যকর আছে। এ ছাড়া কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জিত।
কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধিরা এখন সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যাতে বিদ্যমান শুল্ক অন্তত কিছুটা কমানো যায়। এদিকে চলতি বছরের শুরুতেই ইউএসএমসিএ চুক্তি যেমন আছে তেমনি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র— ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিতে পরিবর্তন চায়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন এই শুল্কের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে চিড় ধরতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন
- মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
- যুদ্ধ না সংলাপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোজতবা খামেনির হাতে: আরাগচি
- টানা নবম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা কখনো ভুলবে না : মোজতবা খামেনি
- মার্কিন সেনা নিহতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মুহুর্মুহু হামলা
- এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে ইইউ ও জি৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
- দ্রুতই ইরানের পরাজয় হবে: ট্রাম্প
- টানা চতুর্থ দিনের মতো বাড়ল তেলের দাম