1. »
  2. আন্তর্জাতিক

আটকের পর রাহুল গান্ধীর পাঁচ দফা দাবি

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৮ এএম | আপডেট: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৮ এএম

আটকের পর রাহুল গান্ধীর পাঁচ দফা দাবি

ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘জেন-জি’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্য নেতাদের আটক করা হয়। রাহুলকে নেওয়া হয় ছত্রশাল স্টেডিয়ামে, আর প্রিয়াঙ্কাকে মন্দির মার্গ থানায়। পরে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাতের দিকে দুই নেতাকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তার দাবিগুলো হলো— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ; সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার; শিক্ষার্থীদের ওপর অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা; এবং শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন। 

তিনি বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন? সন্তানদের পড়াতে গিয়ে কেন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে?’ এসব প্রশ্ন করা কোনো ভুল নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলের দাবি, বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হোক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ধন্যবাদ জানান।

তবে সরকারপক্ষ রাহুল গান্ধীর অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদে আলোচনার অবস্থান থেকে সরে এসে এখন মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি তুলছেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, সরকার সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও বিরোধী দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে ব্যবহার করছে এবং সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য।

নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের, যা নিয়ে সরকার-বিরোধী রাজনৈতিক বিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।