দিল্লিতে ফের পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ, বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:১০ এএম | আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:১০ এএম
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে জানা গেছে, সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দেয়।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং এ সময় একজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নেয় পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবকরা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন, এই যুক্তিতে যে সহিংসতা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পরে লাউডস্পিকারযুক্ত একটি পুলিশ বাসে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দাঁড় করিয়ে সংসদ মার্গ এলাকায় ঘুরিয়ে অহিংস থাকার আহ্বান জানানো হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত যন্তর মন্তর কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, এয়ারটেল, জিও ও ভি-সহ বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনা পায়, যা দুটি বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন। তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকেই ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদিও নির্দেশটি কোন কর্তৃপক্ষ জারি করেছিল তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে নগরবাসীর চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার প্রেক্ষাপটে ভারতের পরিস্থিতি নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে সংকট কত দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে।
আরও পড়ুন
- আটকের পর রাহুল গান্ধীর পাঁচ দফা দাবি
- ইরানের টানা ১১ রাত যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
- মোদির বাসভবনের সামনে থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
- কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
- যুদ্ধ না সংলাপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোজতবা খামেনির হাতে: আরাগচি
- টানা নবম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র এমন শিক্ষা পাবে, যা কখনো ভুলবে না : মোজতবা খামেনি
- মার্কিন সেনা নিহতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মুহুর্মুহু হামলা