অতিদরিদ্র ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে নিয়ে ২০টি 'মডেল খাল' গড়ছে সরকার, উদ্বোধন ১৯ নভেম্বর
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০১ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০১ এএম
খনন শেষ হলেই খালের দায়িত্ব ফুরিয়ে যাবে না, বরং তখন থেকেই শুরু হবে খালকে কাজে লাগানোর পালা। এই ভাবনা থেকে সারা দেশে ২০টি সরকারি খালকে 'মডেল খাল' হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। খালপাড়ে গাছ লাগানো, খালে হাঁস ও মাছ পালন এবং পাড়ের ঢালে সবজি চাষের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা করাই এর লক্ষ্য।
আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রণালয়ের ধারণাপত্রে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অবহেলা ও অবৈধ দখলে তার অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের চারটি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ করছে। এর মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভাগে পড়েছে ৭ হাজার কিলোমিটার, আর গত অর্থবছরে তাদের লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, শুধু পানি নিষ্কাশনে সীমাবদ্ধ না রেখে খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ, হাঁস ও মাছ চাষ এবং কুটির শিল্পের সুযোগ তৈরি করে খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মডেল খালের ধারণা আনা হয়েছে। তাঁর মতে, খালপাড়ের দরিদ্র মানুষ নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হলে খালটি পাহারা দেওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও মমতা নিয়ে নেবেন, এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মচঞ্চলতা তৈরি হবে।
ধারণাপত্র অনুযায়ী, পুনঃখননের পর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত ব্যবহার না থাকলে খাল আবার দখল, আবর্জনা বা পলিতে ভরাট হয়ে যেতে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতেই এ কর্মসূচি। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তাকে শুধু ভাতা বা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে উৎপাদনশীল জীবিকার মাধ্যমে মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনীতি গড়াও এর উদ্দেশ্য। দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও কর্মসূচিটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রথম ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ৩টি করে এবং রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২টি করে খাল নেওয়া হবে। প্রতিটি খালের গড় দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার ধরে মোট প্রায় ৬০ কিলোমিটার খাল এ পরীক্ষার আওতায় আসছে। আগে পুনঃখনন হয়েছে বলেই কোনো খাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল খাল হবে না। প্রতিটি জেলার প্রস্তাব থেকে জিপিএস স্থানাঙ্ক, জমির খতিয়ান, দখল পরিস্থিতি, পানিপ্রবাহ এবং স্থানীয়দের চাষাবাদের উপযোগিতা যাচাই করে চূড়ান্ত ২০টি খাল বাছাই করা হবে। উপকারভোগী বাছাই হবে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে, যেখানে স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী সদস্যসম্পন্ন দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
খালের পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাভিত্তিক জোন করে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। খালের একটি অংশ স্থানীয় মানুষ ও গবাদিপশুর গোসল এবং গৃহস্থালি কাজে পানি নেওয়ার জন্য 'পাবলিক জোন' হিসেবে খোলা থাকবে। গভীর ও উপযোগী অংশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত হাঁস পালনের জন্য থাকবে 'প্রোডাকশন জোন'। নৌযান চলাচলের সুযোগ আছে এমন খালে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য রাখা হবে 'ন্যাভিগেশন চ্যানেল'। পাড়ের মাটি ধস ঠেকাতে জলসহিষ্ণু ও ফলজ গাছের সামাজিক বনায়ন করা হবে, আর ঢালু অংশে মাচা পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগ থাকবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়া হবে, যেখানে অন্তত অর্ধেক সদস্য হবেন নারী। তবে কোনো উপকারভোগী বা সমবায়কে খাল, খালপাড়ের জমি কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ওপর স্থায়ী স্বত্ব দেওয়া হবে না, তাঁরা পাবেন শুধু শর্তসাপেক্ষ ও অ-হস্তান্তরযোগ্য ব্যবহারের অনুমতি। কর্মসূচিটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে চলবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি এখতিয়ারও অক্ষুণ্ন থাকবে।
আলাদা কোনো বড় প্রকল্প ছাড়াই বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজটি হবে। প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা স্থায়ী অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি নয়, বরং ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। উৎপাদন শুরুর পর আয় থেকে সমবায়গুলো নিজেরাই পরিচালনা ব্যয় মেটাবে, ফলে সরকারি আর্থিক নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। জাতীয় পর্যায়ে ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি থাকবে। ১২ মাস পাইলট চালানোর পর স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বাসসকে বলেন, মডেল খালের মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় নিবন্ধিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সংগঠিত করে সমবায় সমিতি গঠন। কর্মসূচির প্রথম দুই বছর সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে খালের উৎপাদন, আয় ও সৃষ্ট সম্পদের ওপর সমবায়ের স্থানীয়দের সরাসরি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা তাঁদের পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে বলে তিনি জানান।
সূত্র: বাসস
মোজাহিদ/দিনকাল
আরও পড়ুন
- ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে সোমবার
- ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে জরুরি নির্দেশনা
- জিয়াউর রহমানের আদর্শে শিশুদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান মঈন খানের
- প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
- দেশের সব হাসপাতালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা
- আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়