1. »
  2. সমগ্র দেশ

টঙ্গীতে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী-বিজিবি

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২০ পিএম | আপডেট: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:২০ পিএম

টঙ্গীতে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী-বিজিবি

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের পাশাপাশি কাজ করছেন সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এ ঘটনায় অন্তত দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটির ইউনিট-২-এর চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওষুধ তৈরির কাঁচামালসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নেভানোর কাজে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশনের তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের চারটি, কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি, রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। এ ছাড়া মিরপুর থেকে বিপজ্জনক রাসায়নিক মোকাবিলায় সক্ষম একটি বিশেষায়িত যান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে বুধবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পানির ট্যাংক নিয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজিবির সদস্য ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ওষুধ তৈরির কাঁচামালের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

এদিকে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে দুই শ্রমিক আহত হন। তাঁদের মধ্যে সাদেক হোসেন (৩৮) নামের একজনকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপর আহত শ্রমিকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কারখানায় ওষুধ তৈরির কাঁচামাল থাকায় আগুনের তীব্রতা এবং আশপাশের এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, আগুনের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

মোজাহিদ/দিনকাল