1. »
  2. সমগ্র দেশ

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ, বিচারের আশায় পরিবার

বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:১২ এএম | আপডেট: বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১১:১২ এএম

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ, বিচারের আশায় পরিবার

আজ ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৫ বছর। বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহের ছবি এক দশকেরও বেশি সময় পরেও দুই দেশের মানুষের বিবেক নাড়া দেয়। দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় হতাশ বাবা-মাসহ স্থানীয়রা। 

এদিকে ফেলানী হত্যার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা সীমান্তবাসীসহ আইন বিশেষজ্ঞদের।

২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত হয় ফেলানী খাতুন। ঘটনাটি দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সীমান্তে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হয়ে ফেলানী কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে তার দেহ। পরে সেই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সরকার ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে এবং বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়।

ঘটনার পর বিএসএফের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বিচারিক ফলাফল নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলতে থাকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে সীমান্তে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে নিরপেক্ষ বিচার ও দায়বদ্ধতার দাবি জানায়। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধের আহ্বানও ওঠে।

সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে এ হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হলে দু’দফায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। 

এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানীর দিন পিছালেও এখনও আদালতেই ঝুলে আছে বিচারিক কাজ। নির্মম এ হত্যান্ডের ন্যায় বিচার চান পরিবার।

ফেলানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের শোকের গল্প নয়; এটি সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনে দেয়। আজও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটনে কাজের সন্ধানে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান তারা। পরে ফেলানীকে বিয়ে দিতে দালালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকান্ডের শিকার হয় ফেলানী।