তেল সংকটের শঙ্কা: রাজধানীর পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০৪ পিএম | আপডেট: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য তেল সংকট ও দাম বৃদ্ধির শঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহন চালকেরা।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। রাজধানীর কালশির সুমাত্রা পাম্পসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির লম্বা লাইন লক্ষ্য করা যায়।
গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এমন ভিড়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনের পরিস্থিতি প্রায় একই রকম।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, গত দুই দিন পাম্পগুলোতে ভিড় দেখে তেল নেননি। ভেবেছিলেন কয়েক দিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর শুনে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ট্রিপে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি/জিপ বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নেওয়া যাবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা অস্বাভাবিক নয়। তবে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকার স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল সরবরাহ করেছে। মানুষের আতঙ্কের কারণে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা দেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। সরকার আপাতত দাম বাড়াতে না চাইলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। তিনি জনগণকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সংকট তৈরি না হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে।
আরও পড়ুন
- কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা
- পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন, দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু
- ৭০ ঘণ্টা পর সীমান্ত থেকে সেই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
- ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ
- তিন দশক পর টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সে নির্বাচন, আনন্দিত ব্যবসায়ীরা
- রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা
- একাধিক সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি,
- ১৪৪ ধারা অমান্য করে টাঙ্গাইলে ফের সংঘর্ষ, তিন বাড়িতে আগুন