1. »
  2. সমগ্র দেশ

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৬:১৯ পিএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৬:১৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত অবরোধ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন।

তিনি বলেন, নৌ-উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের বদলি করা হচ্ছে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—এনসিটি জেটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জারি করা সব বদলির আদেশ বাতিল।

বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালেই অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 

স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বন্দর অভিমুখে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

অন্যদিকে, টানা চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকায় এবং পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান বলেন, এ অচলাবস্থার ফলে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পোশাক খাতের রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।