1. »
  2. শিক্ষা

এসএসসি পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৫ এএম | আপডেট: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৫ এএম

এসএসসি পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এসএসসি এবং কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয়ের মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়।

এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২০ মে পর্যন্ত চলবে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২৪ মে পর্যন্ত চলবে এবং একই সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিলে অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। সারাদেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন কমেছে।

পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল অংশ নেওয়া হচ্ছে (আইসিটি ব্যতীত)। এমসিকিউ অংশের জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি নেই।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া প্রতিটি বিষয়ের বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে ফেল করলে পুরো বিষয়েই অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সব পরীক্ষা কেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং কেন্দ্রগুলো সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল অনিয়ম ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরীক্ষা পরিচালনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা-ভীতি দূর করতে সরকার কাজ করছে।