1. »
  2. আন্তর্জাতিক

তামিলনাড়ু রাজনীতিতে তীব্র সংকট, বিজয়ের দলের ১০৭ বিধায়কের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ১০:২৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ১০:২৪ এএম

তামিলনাড়ু রাজনীতিতে তীব্র সংকট, বিজয়ের দলের ১০৭ বিধায়কের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) হুঁশিয়ারি দিয়েছে — ডিএমকে বা এআইএডিএমকে সরকার গঠনের দাবি তুললে দলের ১০৭ জন নির্বাচিত বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।

এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে বৈঠকের পর টিভিকে শিবিরে আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছে যে, নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দলটিকে বাইরে রেখে দুই দ্রাবিড় দল মিলে সরকার গড়তে পারে। টিভিকের দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে ক্ষমতায় যাওয়ার অধিকার তাদেরই।

তবে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বৃহস্পতিবার বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দেননি। টানা দুই দিনের বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার গঠনের আগে অবশ্যই ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন জমা দিতে হবে। রাজভবনের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

২৩৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১১৮টি আসন। টিভিকে পেয়েছে ১০৭টি। কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন মিললেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো দূরে দলটি। বাম ও ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, পাশাপাশি আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে টিভিকে।

অন্যদিকে ডিএমকে বিকল্প সমীকরণ নিয়ে সক্রিয়। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দলীয় প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে 'জরুরি সিদ্ধান্ত' নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০ মে পর্যন্ত সব বিধায়ককে চেন্নাইয়ে থাকতে বলা হয়েছে। দলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে ডিএমকের ভেতরেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। তরুণ নেতারা আশঙ্কায় আছেন, বিজয় ক্ষমতায় গেলে এমজি রামচন্দ্রনের মতো দীর্ঘ মেয়াদে রাজনীতিতে একচ্ছত্র হয়ে উঠতে পারেন। অন্যদিকে প্রবীণ নেতারা ভয় পাচ্ছেন জনরোষের — দশকের পর দশকের শত্রু দুটি দল হাত মেলালে মানুষ ভালোভাবে নেবে না বলে তাদের আশঙ্কা।

এআইএডিএমকে আপাতত অপেক্ষার নীতিতে রয়েছে। পলানিস্বামী ৪৫ জনের বেশি বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, টিভিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং 'বিধায়ক ভাঙানো'র প্রশ্নই উঠছে না।

গভর্নরের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে একাধিক পক্ষ। সিপিআই বলছে, একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়াই সাংবিধানিক রীতি, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষা হওয়া উচিত বিধানসভায়। ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভানও একই মত দিয়েছেন। ডিএমকে এই সিদ্ধান্তকে 'জনরায়ের প্রতি অসম্মান' বলে আখ্যায়িত করেছে। অভিনেতা কমল হাসানও প্রকাশ্যে বিজয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।