1. »
  2. আন্তর্জাতিক

২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় মিয়ানমার ফিরছেন ১৪৭৬ রোহিঙ্গা

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৩ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৩ এএম

২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় মিয়ানমার ফিরছেন ১৪৭৬ রোহিঙ্গা

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের ৫ হাজার নাগরিককে ধাপে ধাপে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে দেশটির সরকার। প্রথম দফায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম দফায় ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১৪৭৬ জনের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের ১৩ আগস্টের কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সভায় প্রত্যাবাসনের এই তারিখও অনুমোদন করা হয়। প্রত্যাবাসনে ব্যবহার করা হবে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ, যার জন্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনের জন্য চিহ্নিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই জাতিগত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের। জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার নিপীড়িত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে ৫ হাজার জনকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। 

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, বর্তমানে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরার মতো পরিস্থিতি নেই, এবং দেশটির সামরিক বাহিনী এখনো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে তারা।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হবে। 

এর বাইরে আরও ৫ হাজার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবেন। গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ছিলেন ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক, যাদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে না। ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ তাদের পরিচয়, নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন অবস্থা, শরণার্থী দাবি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে, যা ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে শেষ হওয়ার কথা।

ডিপিপির শর্ত পূরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের ‘ডিপিপি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত শর্ত ও সরকারি নজরদারির আওতায় তারা সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের সুযোগ পাবেন। মালয়েশিয়ায় থাকা ৯৫ শতাংশের বেশি শরণার্থী মিয়ানমার থেকে আসা, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ছাড়াও চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। 

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের সম্মতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স