1. »
  2. আন্তর্জাতিক

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১০:৩৪ এএম | আপডেট: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১০:৩৪ এএম

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সৌদি বিমানবাহিনী ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে — যা রিয়াদের প্রতিরক্ষা কৌশলে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত মার্চে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইরানি হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটিই প্রথমবার সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মাটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নিরাপত্তা বলয় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সৌদি আরব নিজেই নিজের সুরক্ষায় আরও সাহসী ভূমিকায় নেমেছে।

গত কয়েক মাসের যুদ্ধে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত একটি অভিযানে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেছে। গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও আমিরাত যৌথভাবে ইরানের সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আক্রমণ করে। এ ছাড়া যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে 'আয়রন ডোম' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।
গোপন সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি

সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছিল পর্দার আড়ালে। মার্চের শেষ সপ্তাহে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরব পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরানকে সতর্ক করে দেয়। এর ফলে এপ্রিলের শুরুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং ৭ এপ্রিলের মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক আগেই একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয়।

আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর (আইসিজি) ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ এই পরিস্থিতিকে উভয় পক্ষের 'বাস্তববাদী উপলব্ধি' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হয়েছে।
উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত নয়

যুদ্ধবিরতির পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পুনরায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে রিয়াদ আবারও পাল্টা আক্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়। সেই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করে।

সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরাসরি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ফাঁস হওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও জটিল সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দেশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক মেরুকরণে জড়িয়ে পড়ছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল