1. »
  2. আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের মাঝেই বেইজিং সফরে ট্রাম্প, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১০:৫৩ এএম | আপডেট: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ ১০:৫৩ এএম

যুদ্ধের মাঝেই বেইজিং সফরে ট্রাম্প, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চলার মধ্যেও বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মঙ্গলবার (১২ মে) ওয়াশিংটন থেকে রওনা দিয়ে বুধবার (১৩ মে) বেইজিং পৌঁছাবেন তিনি।

পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে একাধিকবার পেছানো হয়েছিল। তবে যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই শেষ পর্যন্ত বেইজিং যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন ট্রাম্প। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।

এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র — এই প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো সত্যিই বিরল।

কাম্পবেল আরও বলেন, এই সফর প্রমাণ করে যে ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং — উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।
যুদ্ধের মধ্যেও সফর বাতিল হলো না কেন?

গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আসছে। বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধও জারি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল না হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
আলোচনায় যা থাকতে পারে

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসাকে বেইজিংয়ের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তিন দিনের এই সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বড় কোনো ঘোষণা আসে কি না এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনা দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখে কি না — সেদিকেই এখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি।

সূত্র: এপি নিউজ