দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, মাঠে এসআরবির ৬ হাজার সদস্য
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ এএম | আপডেট: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ এএম
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ উপলক্ষে বাহিনীর ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে ৫৪৯টি পিকআপ এবং ৪৪৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে চলছে নিয়মিত টহল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
বর্তমানে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি না থাকলেও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাহিনীর ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত ও প্রতিরোধেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব।
বাহিনীর মহাপরিচালক জানান, ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল রয়েছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং দল ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপে নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিমা পরিবহন এবং বিসর্জনের নির্ধারিত পথগুলোতে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিসর্জনস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন এসআরবি সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব আনন্দ, শান্তি ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এসআরবি মহাপরিচালক।
মোজাহিদ/দিনকাল
আরও পড়ুন
- কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য
- লামা থেকে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী চট্টগ্রামে উদ্ধার
- টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
- ফরিদপুরে অসহায় পরিবারকে ঘর, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন প্রধানমন্ত্রী
- টঙ্গীতে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে, যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী-বিজিবি
- টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৮ ইউনিট
- নারীশিক্ষার অগ্রগতি ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় বগুড়া ছাত্রদল সভাপতির
- সারাদেশে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা